সমকামীতা কি ? ইসলাম কি সমকামীতাকে সমর্থন দেয় ?

সমকামিতা (ইংরেজি: Homosexuality, হোমোসেক্‌শুয়্যালিটি) একটি যৌন প্রবৃত্তি, যার দ্বারা সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি যৌন আকর্ষণ বোঝায়। এইরূপ আকর্ষণের কারণে সমলিঙ্গীয় মানুষের মধ্যে প্রেম বা যৌনসম্পর্ক ঘটতে পারে। প্রবৃত্তি হিসেবে সমকামিতা বলতে বোঝায় মূলত সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি “এক যৌন, স্নেহ বা প্রণয়ঘটিত এক ধরনের স্থায়ী ও প্রাকৃত প্রবণতা”। এই ধরনের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত বা সামাজিক পরিচিতি, এই ধরনের আচরণ এবং সমজাতীয় ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এক সম্প্রদায়ের সদস্যতাও নির্দেশিত হয়।

আমরা সবাই জানি যে, মুসলিমরা “সমকামীতা”কে গর্হিত যৌন অপরাধ মনে করে। এবং এটাও সত্য যে, মুসলিম সমাজে সমকামীতার ছড়াছড়ি অন্যান্য সমাজের তুলনায় কম নয়, যদিও তা ঘটে গোপনে। তবে প্রশ্ন হচ্ছেঃ ইসলাম সমকামীতা সম্পর্কে প্রকৃতপক্ষে কি বলে?

আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে একমাত্র মানুষই বিভিন্ন ভাবে তার যৌনানুভূতি প্রকাশ ও চরিতার্থ করতে পারে। তার মধ্যে একটি সমকামীতা, আল্লাহর কাছে এটা গ্রহনযোগ্য নয়। সমকামীতায় লিপ্ত হযরত লুত (আঃ) র জাতিকে আল্লাহ ধ্বংস করে দিয়েছেন। ‘লুত বলিল ওরা আমার মেহমান সুতরাং আমাকে লজ্জিত করিও না। তোমরা আল্লাহকে ডরাও, আমাকে হেয় করিও না। অর বলিল দুনিয়া লোক আশ্রয় দিতে বারন করি নাই? সে বলিল একান্তই করিতে চাহিলে এই আমার কন্যারা আছে। তোমার জীবনের কসম ওরা মত্ত ও বিমূঢ় হইয়াছে ফলকথা সূর্যোদয় হইতেই ওদিগে বজ্র আঘাত করিল এবং শহর গুলিকে উল্টাইয়া দিলাম।’ (সুরা আল হিজর আয়াত ৬৯-৭৪)

সুতরাং মানুষকে তার বিবেক ও বুদ্ধি ব্যবহার করে সমকামীতা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। সমকামীতাও ইসলামে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের মত নিষিদ্ধ ও নিরুতসাহিত করা হয়েছে। কোরান ও হাদিসে সমকামীতার শাস্তির বিশদ বর্ননা দেয়া হয়েছে। কোরানের বর্ননানুযায়ী বিচারের জন্য এই ঘৃন্য কাজের জন্য অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি অথবা এই ঘটনার চারজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য প্রয়োজন, যা বর্তমান কালের প্রেক্ষিতে প্রায় অসম্ভব, এই ক্ষেত্রে শেষ বিচারের দিনের অপেক্ষা করতে হবে, যেদিন সব জান্তা, সর্বদর্শী, মহান বিচারক আল্লায় তায়ালা স্বয়ং বিচার করে দিবেন।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে পরিস্কার ভবেই দেখা যায় ইসলামে মানব যৌনতার একটা খোলামেলা উল্লেখ আছে। এছাড়া ও অসংখ্য হাদিস থেকে জানা যায় রাসুল (সাঃ) স্বয়ং খোলামেলা আলোচনা করেছেন এব্যাপারে, এতে করে বোঝা যায় যৌন বিষয়ে শিক্ষাদান ও শিক্ষালাভ গ্রহনযোগ্য। মুসলমানগন কোন বয়স থেকে যৌনশিক্ষা গ্রহন করা উচিত এই বিষয়ে দ্বিমত পোষন করতে পারেন। কেউ কেউ হয়তো এই ব্যাপারে কোন আলোচনাই করতে চাইবেন না।

বয়ঃসন্ধিকালে শাররীক পরিবর্তন সমন্ধে তাদের সম্যক ধারনা দেয়া উচিত। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে বর্তমানকালে তাড়াতাড়িই যৌন কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। মুসলিম নব্য যুবকশ্রেনীকেও এই ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে নইলে পরিস্থিতির শিকার হতে সময় লাগবে না। নব্য যুবকশ্রেনীকে এই বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে উদবুদ্ধ করতে হতে যাতে তারা সুস্থ্য ও বৈধ যৌনাভ্যাস করে।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন